নব দূর্বাদল-শ্যাম জপ মন নাম

নব দূর্বাদল-শ্যাম জপ মন নাম শ্রীরঘুপতি রাম।
সুরাসুর কিন্নর যোগী মুনি ঋষি নর,
চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥

সজল-জলদ-নীল নব-ঘন-কান্তি
নয়নে করুণা, আননে প্রশান্তি
নাম শরণে টুটে শোক-তাপ-শ্রান্তি
রূপ নেহারি মূরছিত কোটি কাম॥

  • ভাবসন্ধান: হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে বিষ্ণু [পৌরাণিক, হিন্দু] দশ অবতারের মধ্যে রাম ছিলেন সপ্তম অবতার এবং ত্রেতা যুগের তিন অবতারের শেষ অবতার। এই অবতার শ্রীরামের নামের মাহাত্ম্য, তাঁর অপরূপ রূপসৌন্দর্য এবং তাঁর করুণাময় স্বরূপের বন্দনা করা হয়েছে। কবি ভক্তচিত্তে মনকে শ্রীরঘুপতি রামের নাম জপ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

    কবি নিজেকই আত্মনির্দেশ দিয়ে বলছেন, হে মন, নব দূর্বাদলের মতো শ্যামবর্ণ, অতি পবিত্র ও মধুর নামধারী শ্রীরঘুপতি রাম -এর নাম স্মরণ কর। দেবতা, অসুর, কিন্নর, যোগী, মুনি, ঋষি এবং সাধারণ মানুষ—সকলেই এই পরম পবিত্র নাম অনবরত জপ করেন। সমগ্র জগতের স্থাবর-জঙ্গম সকল সত্তার মধ্যেই এই নামের মাহাত্ম্য বিরাজমান। শ্রীরামের দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনায় বলছেন- তাঁর রূপ সজল মেঘের মতো নীল ও নব মেঘরাশির মতো শ্যামল। তাঁর দেহে অপরূপ দিব্য কান্তি প্রকাশিত। তাঁর নয়নে অসীম করুণা এবং মুখমণ্ডলে প্রশান্তির দীপ্তি ফুটে ওঠে। তাঁর রূপ দর্শন ভক্তহৃদয়ে গভীর শান্তি ও আনন্দের অনুভূতি জাগায়। কবি মনে করেন, শ্রীরামের নামের আশ্রয় গ্রহণ করলে জীবনের সকল শোক, দুঃখ, মানসিক তাপ ও ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। তাঁর নাম মানুষের হৃদয়ে শান্তি, শক্তি ও মুক্তির অনুভব এনে দেয়। তাঁর অপরূপ রূপমাধুর্যের কাছে কোটি কোটি কামদেবও মুগ্ধ ও পরাভূত হয়ে যায়।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
  • গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১৯৬০। পৃষ্ঠা ৫৮৯-৫৯০]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনতান হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। রাম। বন্দনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।