নমি গোকুল-গোপাল গোবিন্দ

নমি গোকুল-গোপাল গোবিন্দ।
কীর্তনে নাম যার অমিয় লিখনে, জগতে জাগে নবছন্দ!
যে গুণ-গানে পাখি বিভোর হয়ে যায়,
ফুল ঝরে যায় যে নামে বনছায়;

যায় পদ-রজঃ মেখেছে সারা ব্রজ –
সে নামে গোরাচাঁদ ঘুচাল দ্বন্দ্ব॥
যে বেণু স্বননে গোপী উতলা,
যে-নামে ডেকে ওঠে বনে কোয়েলা।
যে-নাম অবিরাম জপিছে মহাকাল,
ত্রি-কাল ধরি’ পায় চির-আনন্দ॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে শ্রীকৃষ্ণের নামের মহিমা উপস্থাপন করা হয়েছে।  এই অর্থে এটি শ্রীকৃষ্ণের নাম-কীর্তনমূলক ভক্তিগীতি।।

    গানের শুরুতে কবি 'গোকুল-গোপাল গোবিন্দ; নামে শ্রীকৃষ্ণকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়েছেন। কারণ, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাল্য ও কৈশোর লীলায় গোকুলের গোপালরূপে গোপবালকদের সঙ্গে গবাদিপশু পালন করতেন এবং ব্রজবাসীর হৃদয়ের আনন্দ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর নামের কীর্তন অমৃতের মতো মধুর; সেই নামের ধ্বনিতে জগৎ যেন নব আনন্দ ও নতুন ছন্দে জেগে ওঠে। তাঁর গুণগান এতই মধুর ও আকর্ষণীয় যে পাখিরাও সেই সুরে বিভোর হয়ে যায় এবং বনছায়ায় ফুল ঝরে পড়ে। 

    যে শ্রীকৃষ্ণের চরণধূলিতে সমগ্র ব্রজভূমি পবিত্র হয়েছে, সেই পরম পবিত্র নামই পরবর্তীকালে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু (গোরাচাঁদ) প্রেমভক্তির মাধ্যমে প্রচার করেন। কৃষ্ণনামের মহিমা মানুষের অন্তরের দ্বন্দ্ব, সংশয় ও বিভেদ দূর করে প্রেম ও ঐক্যের পথ দেখায়। কবি স্মরণ করেন, শ্রীকৃষ্ণের বেণুর মধুর ধ্বনি শুনে বৃন্দাবনের গোপীরা প্রেমের আকর্ষণে ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। তাঁর নামের মাধুর্যে বনের কোয়েলও যেন আনন্দে গান গেয়ে ওঠে। এই নামের মাহাত্ম্য এতই অসীম যে মহাকালও অনন্তকাল ধরে সেই নাম জপ করে চলেছে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—ত্রিকালের সকল সত্তাই সেই নামের মধ্যে চিরআনন্দের সন্ধান পায়।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
  • গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১৯৬৪। পৃষ্ঠা ৫৯১]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। নাম বন্দনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।