বরিষণ-শেষে ডাকিয়া যূথীরে কহিল মালতী-কলি

বরিষণ-শেষে ডাকিয়া যূথীরে কহিল মালতী-কলি –
‘আমি দুলিব পিয়াল-কোলে পিয়া, পিয়া বলি’॥
            চাহিয়া বারেক রবিকরে
            তুমি বুঝিবে ধূলির ’পরে,
সৌরভ তব থরে থরে, তবু আসিবে না তব অলি॥
            সিক্ত বাতাসে চাঁদের আবেশে
            শ্বেত পুষ্পের স্নিগ্ধ সুবাসে,
প্রেম ও প্রীতির সুরভি-আকাশে – যূথী-দল প’ড়ে ঢলি’॥
বিদায়-বেলায় যূথিকা কহিল – বিলাতে আমি
                           আসিনু ধরায় নামি’,
প্রেমের মিলন-বাসরে, আমারে যেয়ো গো দলি’॥

  • ভাবার্থ: এই গানে যুথী ও মালতী ফুলের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে নাটকীয় কথোপকথনে। এই গানে রয়েছে মিলনের আত্মগৌরবের কথা। যাকে কেউ যেন অয়হেলা করে দলিত বা লাঞ্ছিত না করে।

    বর্ষণ শেষে মালতী লতার কলি যখন পিয়াল গাছের আশ্রয়ে প্রিয়ার সঙ্গলাভের আশায় যৌবনানন্দে দুলবে, তখন সূর্যের পানে একবার চেয়ে যুথী ঝরে পড়বে ধূলিতে। যতই সৌরভ থাক, ধুলির যূথীর সৌর্ভ নিতে আসবে না কোন ভ্রমর।

    প্রকৃতির নিয়মে চাঁদের আবেশে বর্ষণসিক্ত বাতাসে সাদা যূথী প্রেম ও প্রীতির সুবাস ছড়িয়ে ধরণীতে ঝরে পড়ে। বিদায় বেলায় সে মালতীকে জানায়- নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য সে মাটির মিলন বাসরে নেমে আসে। তার একান্ত কামনা- কেউ যেন অবহেলায় তাকে পদদলিত করে না যায়।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। 
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৫৯৭ গান। পৃষ্ঠা: ৪৭৮।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।