দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত (dukkho-klesh-shok-pap-tap shoto)

দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত
শ্রান্তি মাঝে হরি শান্তি দাও দাও॥
কাণ্ডারি হে আমার, পার কর কর পার,
উত্তাল তরঙ্গ অশান্তি পারাবার,
অভাব দৈন্য শত হৃদি-ব্যথা-ক্ষত,
যাতনা সহিব কত প্রভু কোলে তুলে নাও॥
হে দীনবন্ধু করুণাসিন্ধু,
অম্বর ব্যাপি' ঝরে তব কৃপা-বিন্দু,
মরুর্ মতন চেয়ে আছি নব ঘনশ্যাম 
আকুল তৃষ্ণা ল'য়ে প্রভু পিপাসা মিটাও॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে একজন ভক্তের অন্তরের গভীর আর্তি, অসহায়ত্ববোধ এবং পরমসত্তার করুণা লাভের আকুল প্রার্থনা উপস্থাপিত হয়েছে। সংসারজীবনের দুঃখ, ক্লেশ, শোক, পাপ, তাপ ও নানাবিধ যন্ত্রণায় ক্লান্ত ভক্ত শান্তি ও মুক্তির আশায় প্রভুর শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, পার্থিব জীবনে নানা সংকট ও অশান্তি থাকলেও প্রকৃত শান্তি একমাত্র পরমসত্তার কৃপায় লাভ করা সম্ভব।

    কবি জীবনকে উত্তাল তরঙ্গময় এক অশান্ত সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং পরমসত্তাকে সেই সমুদ্রের কাণ্ডারি বা নাবিকরূপে কল্পনা করেছেন। তিনি প্রার্থনা করেছেন, প্রভু যেন তাঁকে জীবনের এই বিপদসংকুল পথ অতিক্রম করে নিরাপদ তীরে পৌঁছে দেন। অভাব, দারিদ্র্য, হৃদয়ের ক্ষত ও অসংখ্য দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত ভক্ত আর যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না; তাই তিনি প্রভুর স্নেহময় আশ্রয় কামনা করেছেন।

    ভক্ত পরমসত্তাকে দীনবন্ধু ও করুণাসিন্ধু বলে সম্বোধন করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রভুর করুণা আকাশব্যাপী বৃষ্টিধারার মতো সমগ্র সৃষ্টির ওপর বর্ষিত হয়। কিন্তু সেই কৃপাধারা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মসমর্পণ। তাই তিনি নিজেকে মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা নবঘনশ্যামের বর্ষণের অপেক্ষায় তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকে। তেমনি তাঁর হৃদয়ও ঈশ্বরের প্রেম, করুণা ও অনুগ্রহ লাভের জন্য ব্যাকুল।

    গানের শেষাংশে ভক্ত তাঁর আধ্যাত্মিক পিপাসা নিবৃত্তির জন্য প্রভুর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তিনি চান, প্রভুর করুণাসুধা তাঁর অন্তরের শূন্যতা পূর্ণ করুক এবং তাঁকে দুঃখ, অশান্তি ও যন্ত্রণার বন্ধন থেকে মুক্তি দিয়ে চিরশান্তির পথে পরিচালিত করুক।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৩৯) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ৫ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • গীতি-শতদল
      • প্রথম সংস্করণ [বৈশাখ ১৩৪১। এপ্রিল ১৯৩৪। [গীতি-শতদল-৫২। সিন্ধু-কাওয়ালি]।
      • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংকলন। পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১। গীতি-শতদল। গান সংখ্যা ৫২। সিন্ধু-কাওয়ালী। পৃষ্ঠা ৩১২]
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ৭৭৭ সংখ্যক গান]
  • রেকর্ড: এইচএমভি [নভেম্বর ১৯৩২ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৩৯)। শিল্পী: মিস্ বীণাপাণি। নম্বর এন ৭০৫এইচএমভি [নভেম্বর ১৯৩২ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৩৯)]। এন ৭০৫০। শিল্পী: মিস্ বীণাপাণি [শ্রবন নমুনা]
     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: ইদ্‌রিস আলী [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, দ্বাবিংশ খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা ভাদ্র, ১৪০৭/ সেপ্টেম্বর, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ] ১৮ সংখ্যক গান। [নমুনা]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। প্রার্থনা
    • সুরাঙ্গ: ভজন
    • তাল: কাহারবা
    • গ্রহস্বর: সা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।