ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম (ful faguner elo morshum)
ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম বনে বনে লাগল দোল্।
কুসুম-সৌখিন দখিন হাওয়ার চিত্ত গীত-উতরোল॥
অতনুর ঐ বিষ-মাখা শর নয় ও-দোয়েল শ্যামার শিস্,
ফোটা ফুলে উঠ্ল ভ’রে কিশোরী বনের নিচোল॥
গুল্বাহারের উ্তরী কার জড়াল তরু-লতায়,
মুহু মুহু ডাকে কুহু তন্দ্রা-অলস, দ্বার খোল্।
রাঙা ফুলে ফুল্ল-আনন দোলে কানন-সুন্দরী,
বসন্ত তার এসেছে আজ বরষ পরে পথ-বিভোল্॥
- ভাবার্থ: পুষ্প-শোভিত বসন্তের আগমনী এই গানটিতে পাওয়া যায়- সুর ও বাণীর উৎসব-মুখর আনন্দের উচ্ছ্বসিত দোলা। মুলত এই গানটির বেশির অংশ জুড়ে রয়েছে বসন্তের প্রস্ফুটিত ফুলের কথা। তাই একে পুষ্পোৎসব বললেও অত্যুক্তি হবে না।
এই গানে বসন্ত এসেছেই যেন প্রকৃতিতে বর্ণে ছন্দে সৌরভে আমোদিত উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিতে। যেন পুষ্প-বিভূষিত বসন্ত এসেছে বলেই বনে বনে জেগে উঠেছে ফুলের ছন্দিত বর্ণিল দোলা। তাই বসন্তের দখিন হাওয়া পুষ্প-বিলাসে চিত্তকে সুর ও ছন্দে উতরোল করে তুলছে।
কবির কাছে অতনুর (কামদেবতা) পঞ্চশরের প্রণয় বিষ মাখা পুষ্পশরের চেয়ে শ্যামার শিস মহান। কারণ তাতে প্রেমের কুটিলতা নেই, আছে বসন্তের মোহিত কল্যাণী সৌন্দর্য। ফুল-ফাগুনের এই বসন্তোৎসবে শ্যামার সুরই যেন ফোটা ফুলে ভরে দেয় কিশোরী বনের আঁচল।
এই উৎসবের পুষ্পখচিত গুলবাহারের (বুটিদার শাড়ি) উত্তরীয় তরুলতাকে আবরিত করেছে আভরণে বসন্ত। আর এমন বর্ণাঢ্য ফুলেল বসন্তে প্রণয়ের মোহাবেশ ছড়িয়ে কোকিল কুহু কুহু রবে তার সঙ্গীকে আহ্বান করে চলেছে অবিরত।বহুদিন পর বসন্ত যেন পথভুলে এসেছে প্রকৃতির আঙিনায়। তার আগমনে রাঙা ফুলে রঞ্জিত কানন-সুন্দরী হয়ে উঠেছে পুষ্প-মুখী হয়ে। এই উৎসবের আনন্দে সে দোলা খায়। তাই এমন দিনে দ্বার রুদ্ধ না রেখে কবি- সবাইকে এই উৎসবে আসার জন্য আহবান করছেন, গানে গানে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৩৮) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩২ বৎসর ৯ মাস।
- গ্রন্থ:
- সুর-সাকী
- প্রথম সংস্করণ [আষাঢ় ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ। জুলাই ১৯৩২)]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১। সুর-সাকী। ৯ । ভৈরবী-কার্ফা। পৃষ্ঠা: ২২৭]
- সুর-সাকী
- রেকর্ড:
- এইচ.এম.ভি [মার্চ ১৯৩২ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৩৮)। রেকর্ডটি পরে বাতিল করা হয়েছিল।]