আজ গেছ ভুলে! (aj gecho bhule!)
আজ গেছ ভুলে!
আজ সে-সব কথা গেছ ভুলে!
তা’ ধুয়ে গেছে চোখের জলে॥
অনেকের আছে অনেক সে নাথ, জানে এই সংসার,
তোমা বিনে আর কেহ নাই সখা অভাগিনী রাধিকার।
তার ঘর ও বাহির সবই প্রতিকূল,
সে গোকুলে থেকেও অকূলে ভাসে, সকলের সে যে চক্ষের শূল।
তারে সবাই কলঙ্কিনী বলে
হরি, সকলে যাহারে ছাড়িয়াছে তারে ঠাঁই দাও পদতলে॥
হরি ঠাঁই দাও পদতলে॥
- ভাবানুসন্ধান: কৃষ্ণের বিরহে রাধিকার মনোবেদনা এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে। বহুদিন গোকুল ছেড়ে গেছেন কৃষ্ণ। তাঁর বিরহে রাধার মনে উথলে ওঠে বিরহ-কাতরতা। অনুযোগে রাধিকা বলেন- কৃষ্ণ কি কি অতীতের প্রেমলীলা ভুলে গেছেন, নাকি তার মনের ব্যথা ধুয়ে গেছে বেদনার চোখের জলে। রাধিকা অভিমানে বলেন- হয়তো জগৎ-সংসারে অনেকের অনেক নাথ আছে, কিন্তু কৃষ্ণ ছাড়া তাঁর আর কোনো নাথ নেই।
ঘর ও বাহির সবই এখন প্রতিকূল। তাই সে গোকুলে থেকেও কূলহীনা হয়ে সংসারে ভেসে বেড়ান। তিনি এখন সকলের চক্ষের শূল। তাঁর প্রেমের কারণে, সবাই তাঁকে কলঙ্কিনী বলে। তাই সকাতরে রাধিকা হরিকে (কৃষ্ণ) বলেন- সবাই যাকে ছেড়ে গেছে, তিনি যেন তাঁকে ঠাঁই দেন তাঁর পদতলে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। গান সংখ্যা ২৫০৩।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। রাধা-কৃষ্ণ লীলা। বিরহ