আজ সুদিনের আসল ঊষা (aj sudiner ashlo usha)
আজ সুদিনের আসল ঊষা, নাই অভাব আজ নাই অভাব।
অরুণ রবির মতন রাঙা পেয়লা ভরি’ আন্ শারাব॥
ঊষার করে পেয়ালা রবির, উপচে পড়ে কিরণ-মদ,
মধুর উজল সময় এমন, আজ করো না দিল্ খারাব॥
শান্ত কুটির, বন্ধু সাকি, মধুর-কণ্ঠ গায় গজল,
আয়েশ-সুখের আরাম গো তায় নৌ-জোয়ানী বে-হিসাব॥
নাচছে প্রিয়া সাকির সাথে, সুর-পিয়াসি দেয় তালি,
সাকির আঁখির মদির লীলা টুটায় মদের বদ্-খোয়াব॥
মদের নেশায় মিঠার লোভে, সাবাস চতুর ফুল-মালী –
লুকিয়ে রাখ সুবজ পাতায় শারাব-মধুর লাল গোলাব॥
পর্ল প্রিয়া যেদিন কানে গানের মোতি হাফিজের,
সেদিন হতে উর্বশী মোর শুনছে গানের বীণ্-রবাব্॥
- ভাবনুসন্ধান: নজরুল পারশ্যের কবি হাফিজের ভাবানুসঙ্গে এ গানটি রচনা করেছিলেন।
কবির কোনো এক সৌভাগ্যমণ্ডিত দিনের সূচনা হয়েছিল স্রষ্টার পরম সান্নিধ্যে। কবি তারই ভাববেগে উদ্বেলিত। কবির হৃদয়, স্রষ্টার প্রেম ভরপুর। তাই তাঁর কোনো অভাব নেই। তাই এই প্রেমোৎসবে ভোরের সূর্যের মতো প্রেমের রঙিন পেয়ালা ভরে- কবি খোদার প্রেমের শরাব পরিবেশনের জন্য উদ্বেলিত।
সূর্যের মতো জ্যোতির্ময় প্রেম-পাত্র থেকে উপচে পরে ঊষার আলোর মতো জ্যোতির্ম স্রষ্টার প্রেম। কবি কামনা করেন, এমন মধুর স্নিগ্ধ জ্যোতির্ময় দিনে মন খারাপ না করে, সবাই খোদার প্রেমের উৎসবে মেতে উঠুক।
কবির হৃদয় কুটিরে আজ শান্তিতে পরিপূর্ণ। আজ স্রষ্টার প্রেমের অমিয় সুধা হাতে নিয়ে সাকি (ধর্ম গুরু) মধুর কণ্ঠে গজল (প্রেমসঙ্গীত) গাইছে। তার কণ্ঠে বিরাজ করছে আয়েস-সুখের আরাম, হৃদয়ে বইছে প্রেমপূর্ণ নব-যৌবনের বে-হিসেবী প্রেম-জোয়ার। তাঁর প্রেমসঙ্গিনী হয়ে পরমপ্রভু যেন তাঁর প্রিয়তম সাকি (স্রষ্টার প্রেম পরিবেশনকারিণী) আনন্দে নৃত্যরত। আর স্রষ্টার প্রেমময় সুরে অমিয় ধারা পান করার জন্য তার সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে। এমন দিনে সাকির প্রেম-আঁখির মোহনীয় লীলায়- ছুটে যায় শরাবের কু-স্বপ্ন।
এই প্রেমের মদির নেশায় মধুর প্রেমের লোভে- চতুর ফুলমালী (স্রষ্টা) লুকোচুরি খেলেন। তিনি তাঁর প্রেমের রঙিন গোলাপ লুকিয়ে রাখেন সবুজ পাতার আড়ালে। যেদিন থেকে কবি হাফিজের প্রেম-মতির কাব্য স্রষ্টা গ্রহণ করেছেন, সেদিন থেকেই যেন উর্বসী-সম স্রষ্টা শুনছেন তাঁর সঙ্গীতময় বীণ-রবাবের সুর।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসে প্রকাশিত 'নজরুল গীতিকা' গ্রন্থে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩১ বৎসর ৩ মাস। ওমর খেয়ামের দুটি রুবাই- নিয়ে এই গানটি তৈরি করা হয়েছিল।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-গীতিকা
- প্রথম সংস্করণ [ভাদ্র ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩০। দীওয়ান-ই হাফিজ গীতি। ৪। ভৈরবী-কাওয়ালী। পৃষ্ঠা ১২ ]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। তৃতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা ফাল্গুন ১৪১৩/মার্চ ২০০৭] নজরুল গীতিকা। দীওয়ান-ই হাফিজ গীতি। ১২। ভৈরবী-কাওয়ালী। পৃষ্ঠা: ১৭৭]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৮২২। ]
- নজরুল-গীতিকা
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। সুফিদর্শন। আল্লাহর প্রেম