আমি কালি যদি পেতাম কালী রইত না এ মনের কালি (ami kali jodi petam kali roito na e moner kali)
আমি কালি যদি পেতাম কালী রইত না এ মনের কালি।
মোর সাদা মনের পদ্মপাতায় লিখ্তাম তোর শ্রীনাম খালি॥
(মা) কালী পেলে সকল কালো
এক নিমিষে হ’ত আলো,
(মা) কালো পাতার কোলে যেমন ফুটে থাকে ফুলের ডালি॥
(তোর) কালো রূপের নীল যমুনা বইত যদি মনের মাঝে,
(শ্যামা!) দেখ্তে পেত এই ত্রিভুবন, কোথায় শ্যামের বেণু বাজে।
তোর কালো রূপের কৃষ্ণ আকাশ পেলে,
(আমি) ময়ূর হয়ে নাচতাম মা তারার পেখম মেলে।
দুঃখে কালো কপালে মোর হাস্ত শিশু-চাঁদের ফালি॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কালীভক্ত সাধক কবি, মাতৃরূপিণী কালীর সান্নিধ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ফুটে উঠেছে- নানা রূপকল্পের চিত্রমালায়। তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার অবলম্বন হিসেবে তিনি হতে চান- লেখনীর কালি, কালো পাতার কোলে ফুটন্ত পুষ্প, কালো রূপের নীল যমুনা, নৃত্যরত ময়ুর। এই সাধক কবির কাছে আনন্দ-দুঃখের পরমসহায় কালী। কালীর কালোরূপেই নিহিত রয়েছে- জগতের সকল আলোকরাশি, এটাই তাঁর কাছে পরমসত্য। তাই কল্পলোকের অলৌকিকত্বের মাঝে খুঁজে তিনি পেতে চেয়েছেন লৌকিক ভরসা। এই ভক্তিতেই রয়েছে দেবীর কাছে তাঁর পরম আত্ম-নিবেদন।
তিন মনে করেন- লেখার জন্য তেমন কালি থাকতো, তাহলে শুধু কালী নাম লিখেই তাঁর মনের কালিমা দূর করতেন। তারপরেও কালিমামুক্ত মনের সাদা পদ্মপাতায় শুধু কালী নামই লিখেতেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস- এই নামের মধ্য দিয়ে মাতৃরূপিণী কালীর সান্নিধ্য পেলে এক নিমেষে তাঁর জগৎ হয়ে উঠবে আলোকময়। যেমন করে কালো পাতার বুকে প্রস্ফুটিত হয় আনন্দ ও সৌন্দর্যের পুষ্পরাশি, তেমনি তাঁর ভক্তিতে কবির মনোলোকের চেতনার পল্লবরাজির ভিতরে ফুটে উঠবে সত্য-সুন্দরের পুষ্পরাশি।
কবি মনে করেন- যদি কালীর মহিমান্বিতা কালো রূপ-যমুনা প্রবাহিত হতো কবির মর্মলোকে, তাহলে সেখানে উদ্ভাসিত হয়ে উঠতো আলোকময় ত্রিভুবন। সেখানে তিনি খুঁজে পেতেন শ্যামের বংশীধ্বনি মুখরিত বৃন্দাবন। যদি তিনি কালীর কালো রূপের কালো আকাশ হতে পারতেন, পরমানন্দে তারকাখচিত পেখম মেলে নাচতেন ময়ূরের মতো। দুঃখের কালো অন্ধকারেও তাঁর কপালে হাসতো শিবের শিশু-চাঁদের ফালি।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১০৯৮ সংখ্যক গান।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শ্যাআ সঙ্গীত। আত্ম-নিবেদন