আমি মুসলিম যুবা(ami muslim juba)
পুরুষ : (আমি) মুস্লিম যুবা, মোর হাতে বাঁধা আলির জুল্ফিকার।
স্ত্রী : (আমি) মুস্লিম নারী জ্বালিয়া চেরাগ ঘুচাই অন্ধকার॥
পুরুষ : ধরিয়া রাখিতে দীনের নিশান
আনন্দে করি জান কোরবান,
স্ত্রী : কত ছেলে মোর শহীদ হয়েছে মরুতে কারাবালার।
আমি নন্দিনী মা ফাতেমার॥
পুরুষ : য়ুরোপ-এশিয়া-আফ্রিকা জুড়ে ছড়ানু খোদার বাণী,
স্ত্রী : মোর একা গৃহ-মক্কাতে আমি আনি জম্জম্ পানি।
পুরুষ : (আমি) জিনিব পৃথিবী আছে মোর আশা
স্ত্রী : (আমি) প্রাণে দেই তেজ, বুকে ভালোবাসা,
পুরুষ : আমি মুসলিম যুবা
স্ত্রী : আমি মুসলিম নারী,
উভয়ে : দুইধারী তলোয়ার॥
- ভাবসন্ধান: এই গানটি সংলাপধর্মী। এই গানের মধ্য দিয়ে কবি ইসলাম ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষের মধ্য- ইসলাম রক্ষা উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
এই গানে দুজন ইসলাম ধর্মের নর-নারী আত্ম-পরিচয় দিয়েছেন- 'আমি মুসলম যুবা' ও 'আমি মুসলাম নারী'। ইসলামের আদর্শ রক্ষা ও প্রচারের ক্ষেত্রে এঁরা দুইধারী তলোয়ার মতো। এই তলোয়ারের একটি ধার (ধারালো প্রান্ত) হলো 'মুসলিম যুবা'। যিনি ইসলামের আদর্শ রক্ষার দৃঢ়-প্রত্যয়ে বলিয়ান। তাঁর ইমানের অঙ্গ হিসেবে রয়েছে বিশ্বজুড়ে ইসলামের জয় পতাকা উড়ানোর প্রতীজ্ঞা। তাঁর হাতে রয়েছে- হজরত আলী (রাঃ)-এর তলোয়ার জুলফিকার। মূলত এখানে জুলফিকার বিজয় ও শক্তির উৎসের প্রতীক। এই যুবা ইসলাম ধর্মের আদর্শ রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। যে আদর্শের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে- অতীতে মুসলমানরা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে ইসলামের জয় পতাকা হাতে ইসলামের বাণী প্রচার করেছিলেন। এই যুবার আকাঙ্ক্ষা, তিনি তেমনি করে এই ধর্মাদর্শ দ্বারা সারা বিশ্বকে জয় করে নেবেন।
ইসলামের তলোয়ারের অন্য ধার মুসলিম নারী। যিনি জ্ঞান ও শান্তির প্রতীক। তিনি অজ্ঞানতার অন্ধকার ঘুচিয়ে জ্ঞানের প্রদীপ জালান। মাতৃরূপিণী এই নারী যেন নবির কন্যা যেন ফাতেমার আদর্শে গড়া তাঁরই আদর্শিক কন্যা। এই নারীর হয়ে উঠেছেন- ইসলামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ জননী-স্বরূপা। কারবালার মরুপ্রান্তরে আত্মাহুতি দেওয়া শহিদী নরনারীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন শহীদ জননী। তাই তাঁর হৃদয়ে হারনো সন্তানদের বাসা বেঁধে আছে হাহাকার। তাঁর আদর্শিক গৃহ কাবা। সেখানে জমজম কূপের সৃষ্টি হয়েছিল- ইবরাহিম (আঃ)- স্ত্রী হাজেরা (রাঃ) কল্যাণে। তিনি তাঁর শিশুপুত্র ইসমাইল (আঃ)-এর রক্ষার জন্য মরুর বুকে ছোটাছুটি করেছিলেন, আল্লাহর কাছে চিৎকার সাহায্য চেয়েছিলেন। তাঁর হাহাকার ও প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে আল্লাহ শুষ্ক মরুর বুকে জমজম কূপের সৃষ্টি করেছিলেন। বর্তমানে এর অবস্থান মক্কায় মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে। এই গানে তাই বলা হয়েছে- 'মোর একা গৃহ-মক্কাতে আমি আনি জম্জম্ পানি'। এই গানে জমজমে পানিকে কল্যাণময়ী নারীর অমিয় ধারাকে প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই অমিয় ধারায় নারী বীরদের দেহমনে শক্তি প্রদান করে, প্রেমিকা রূপে বীরের মনে জাগায় প্রণয়ানন্দ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৭) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে এই গানটির প্রথম রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইন্সটিটিউট, মাঘ ১৪১৭, ফেব্রুয়ারি ২০১১) নামক গ্রন্থের ১১০৮ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৩৩৮।
- রেকর্ড:
- টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৭)]। এফটি ১৩৪৩৫। শিল্পী: তরুণ মুসলিম সমিতি
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। উদ্দীপনামূলক।