আমি গিরিধারী মন্দিরে নাচিব (ami giridhari mondire nachibo)
আমি গিরিধারী মন্দিরে নাচিব,
আমি নাচিব প্রেম যাচিব॥
নেচে নেচে রস শেখরে মোহিব
মধুর প্রেম তার যাচিব (আমি)
প্রেম-প্রীতির বাঁধিব নূপুর রূপের বসনে সাজিব (আমি)॥
মানিব না লোক-লাজ কুলের ভয় আনন্দ রাসে মাতিব।
শ্যামের বেদীতে বিরাজিব বামে হরিরে মীরার রঙে রাঙিব (আমি)॥
- ভাবসন্ধান: এই গানের কৃষ্ণসাধিকার সাধ, তিনি গিরিধারীর মন্দিরে (কৃষ্ণমন্দিরে) তাঁর ভক্তির অর্ঘ হিসেবে নিবেদন করবেন- ভক্তি রসে আপ্লুত আত্ম-সমর্পণের নৃত্য। তাঁর কামনা তিনি এই নাচের মধ্য দিয়ে রস শেখরে (রসের পূর্ণরূপ) পৌছে, কৃষ্ণকে মোহিত করবেন। তারপর তাঁর কাছে মধুর প্রেম প্রার্থনা করবেন। এই নাচের অঙ্গালঙ্কার হিসেবে, পায়ে থাকবে প্রেমপ্রীতি নূপর, অঙ্গে থাকবে রূপ-সমুজ্জ্বলা বসন।
এই সাধিকা রাধার মতো কূলমান লোকলজ্জা ত্যাগ করে কৃষ্ণের সাথে আনন্দ রসে মেতে উঠতে চান। তিনি রাধিকার মতো শ্যামের বেদীতে শ্যামের বামে বধু হয়ে বিরাজ করবেন। তারপরেও তিনি ভক্তিতে হরিকে সমজ্জ্বল করে রাখবেন, যেমনটা রেখেছিলেন কৃষ্ণের সাধিকা ও কবি মীরা বাই।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ (সোমবার ১৪ আশ্বিন ১৩৪৭) কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে গিরিধারী শ্রীকৃষ্ণ (গীতি-আলেখ্য) সম্প্রচারিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৫ মাস
- রেকর্ড: এইচএমভি। জুলাই ১৯৪০ (আষাঢ়- শ্রাবণ ১৩৪৭)। এন ১৭৪৮৫। শিল্পী: পদ্মরাণী চট্টোপাধ্যায়
- বেতার:
- গিরিধারী শ্রীকৃষ্ণ (গীতি-আলেখ্য)। কলকাতা বেতারকেন্দ্র। ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ (সোমবার ১৪ আশ্বিন ১৩৪৭)। সান্ধ্য অনুষ্ঠান। ৬.৪৫-৭.২৪।
সূত্র:
- বেতার জগৎ। ১১শ বর্ষ, ১৮শ সংখ্যা। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৪০। পৃষ্ঠা: ১০০৬
- The Indian-listener 1940, Vol V, No 18. page 1437]
- গিরিধারী শ্রীকৃষ্ণ (গীতি-আলেখ্য)। কলকাতা বেতারকেন্দ্র। ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ (সোমবার ১৪ আশ্বিন ১৩৪৭)। সান্ধ্য অনুষ্ঠান। ৬.৪৫-৭.২৪।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, ঊনত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। শ্রাবণ ১৪১৩/আগষ্ট ২০০৬] তৃতীয় গান। [নমুনা]
- সুরকার: কমল দাশগুপ্ত
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব সঙ্গীত। কৃষ্ণ। আত্ম-নিবেদন।
- সুরাঙ্গ: ভজন
- তাল: কাহারবা
- গ্রহস্বর: মপা