আমি নূতন ক’রে গড়ব ঠাকুর কষ্টি পাথর দে মা এনে (ami nuton kore gorbo thakur)

আমি নূতন ক’রে গড়ব ঠাকুর কষ্টি পাথর দে মা এনে।
দিব হাতে বাঁশি মুখে হাসি ডাগর চোখে কাজল টেনে॥
মথুরাতে আর যাবে না, মা যশোদায় কাঁদাবে না,
রইবে ব্রজগোপীর কেনা, চলবে রাধার আদেশ মেনে॥
শ্রীচরণ তার গড়ব না মা, গড়লে চরণ পালিয়ে যাবে
নাইবা শুনলে নূপুর-ধ্বনি, ঠাকুরকে তো কাছে পাবে।
চরণ পেলে দেশে দেশে, কুরুক্ষেত্র বাঁধাবে সে 

গন্ধমালা দিসনে মাগো, ভক্ত ভ্রমর ফেলবে জেনে॥
            দেখে কখন করবে চুরি
            একলা ঘরে মরব ঝুরি,
গন্ধমালা দিস্‌নে মাগো, ভক্ত ভ্রমর ফেলবে জেনে॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানের 'আমি' কোন এক মায়ের আদুরে সন্তান। সনাতন পদ্ধতির কেষ্ট ঠাকুরে তার বিতৃষ্ণা জন্মেছে। তাই মায়ের কাছে তাঁর আবদার,  আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে সে নিজের মতো করে তৈরি করবে নতুন ঠাকুর। এই কারণেই  মায়ের কাছে তার কষ্টি পাথরের দেওয়ার জন্য আবদার। মূলত এই গানে কৃষ্ণকে নিজের মতো করে পাওয়ার বাসনাকে, একজন কৃষ্ণভক্তের অভিব্যক্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।

    এই ভক্ত তার রচিত বিগ্রহের হাতে দেবে কৃষ্ণের বাঁশি, তার হাসি মাখা ডাগর চোখে পরাবে সৌন্দর্য কাজল। এই ঠাকুর মথুরাতে যাবে না, কাঁদাবে না সে তাঁর মা যশোদাকে। সে শুধু ভক্তের মনের ব্রজধামে ব্রজগোপীদের প্রেমে কেনা প্রেমসঙ্গী হয়ে রইবে, সে চলবে শ্রীরাধার আজ্ঞাবহ হয়ে। এই বিগ্রহের পা তৈরি করবে না সে, পাছে তিনি পালিয়ে যান। ঠাকুরের চরণবিহীন পায়ে নূপুর ধ্বনি নাই বা যদি বাজে, ঠাকুর তো তার কাছে থাকবে- এটাই তার পরম সান্ত্বনা।

    এই ঠাকুরে গলায় গন্ধমালা না দেওয়া অনুরোধ করেছে সে মাকে। কারণ মালার পুষ্পগন্ধে ভ্রমর হয়তো ঠাকুরকে চিনে ফেলবে। হয়তো সুযোগ বুঝে মধুলোভী ভ্রমরেরা এসে তার ভক্তির ঠাকুরকে চুরি করে নিয়ে যাবে। তখন ঠাকুর হারিয়ে একলা ঘরে কেঁদে মরা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকবে না। এখানে কৃষ্ণপ্রেমিকদের রূপকার্থে মধুলোভী ভ্রমর বলা হয়েছে।

    মায়ের কাছে এই ভক্ত ঠাকুর গড়ার জন্য কষ্টি পাথর চেয়েছে। এই চাওয়া তার মনোলোকের। সেখানে এই ঠাকুরের অধিষ্ঠান হবে। আর সে ঠাকুর হয়ে উঠবে তার মনোলোকের স্বপনে গড়া প্রাণের ঠাকুর।
     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের মে (বৈশাখ -জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৯) মাসে মেগাফোন রেকর্ড থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। নজরুল ইসলামের ছিল ৪২ বৎসর ১১ মাস অতিক্রান্ত বয়সে গানটি রচিত হয়েছিল।
     
  • গ্রন্থ:  নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১১৩২
  • রেকর্ড: মেগাফোন [মে ১৯৪২ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৯)]। জেএনজি ৫৬২৮। শিল্পী: রমা পাল।
  • পর্যায়
    • বিষবাঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। আত্ম-নিবেদন
       

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।