আমি বাণিজ্যেতে যাব এবার মদিনা শহর (ami banijjete jabo ebar)

আমি   বাণিজ্যেতে যাব এবার মদিনা শহর।
আমি   এদেশে হায় গোনাহ্‌গারি ছিলাম জীবন ভর॥
         পাঞ্জেগানার বাজার যেথা বসে দিনে রাতে
         দু’টি টাকা ‘আল্লাহ্’ ‘রসুল’ পুঁজি নিয়ে হাতে,
কত     পথের ফকির সওদা ক’রে হ’ল সওদাগর॥
সেথা    আজান দিয়ে কোরান প’ড়ে ফিরিওয়ালা হাঁকে
          বোঝাই ক’রে দৌলত দেয়, যে সাড়া দেয় ডাকে,
ওগো    জানেন তাহার পাকে কা’বা খোদার অফিস্‌-ঘর॥১
          বেহেশ্‌তে রোজগারের পরে ছাড়পত্র পায়,
          পায় সে সাহস ঈমান-জাহান যদি ডুবে যায়।
ওগো    যেতে খোদার খাস্‌-মহলে পায় সে সিল্‌মোহর॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানটিতে ইসলামের ইমান অবলম্বন করে আল্লাহর দরবারে নিজের পাপ-পূণ্যে হিসেবে মেলানোর বিষয়টি বাণিজ্যের রূপকতায়, সান্ধ্য ভাষার অপূর্ব আলো-ছায়ার খেলায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

    কবি দীর্ঘ দিন স্বদেশে থেকে নানা গুণাহের কাজ করে জীবন অতিবাহিত করেছেন। এবার তিনি মনস্থির করেছেন- মদিনায় গিয়ে সকল পূণ্যের হিসেব মিলিয়ে নেবেন। কবির কাছে মদিনা হলো- শ্রেষ্ঠ লেনা-দেন তথা বাণিজ্যে স্থান। কবি জানেন সেখানে পাঞ্জেগানার বাজার বসে দিনে রাতে। উল্লেখ্য, এই পাঞ্জেগানা হলো- যে কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দলবদ্ধভাবে নামায আদায়ের সুবিধা দিতে প্রতিষ্ঠা করা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন, আবেষ্টনযুক্ত স্থান বা ঘর।  একে অনেক সময় পাঞ্জেগানা মসজিদ বলে। এ মসজিদে জুমার নামাজ ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হয়। কবির কাছে এই পাঞ্জেগানার সওদা করতে গেলে লাগে পূণ্যময় মুদ্রা। কবির কাছে রয়েছে মাত্র দুটি মুদ্রা। এর একটি হলো- 'আল্লাহ', অপরটি হলো-'রসুল'। এই দুটি মুদ্রার বিনিময়ে বাণিজ্য করতে এসে কত ধর্মের পথের অভাগা ভিখারি হয়ে গেছেন সওদাগর। এই ভিখারিরর এই দুটি মুদ্রার বিনিময়ে সকল লোভ লালসা ত্যাগ করে আল্লাহ ও রসুলের পথে চলার রসদ কিনেছিলেন। আর সেই পূণ্যময় রসদের মহিমায় তাঁর হয়ে উঠেছিলেন মহাজন।

    এখানে আজান হলো ধর্মের পথে চলার রসদ ক্রয়ের আহ্বান। এখানে পথে পথে আল্লার প্রেরিত কুরআন থেকে  ধরমের বাণী ফেরিওয়ালার মতো  বিতরণ করেন আল্লার পথের বুজুর্গ ব্যক্তিগণ। যিনি মুয়াজ্জিনের আজানের আহ্বান, কুরআনের বাণীকে গ্রহণ করেন, তাঁদের হৃদয় হয়ে ওঠে পূণ্যের দৌলতে ভরপুর। তাঁরা জানেন এই পবিত্র বাণিজ্যের অফিস ঘর হলো- আল্লার কাবা। এখান থেকে সওদাগর মহাজন তাঁদের উপার্জিত সম্পদের বিনিময়ে পায় বেহেস্তে যাবার ছাড়পত্র। ইমানের জাহাজের ভরাডুবির আশঙ্কা থেকে মহাজন পায় তাঁর ইমানেরই জোরে। সেই সম্পদ ও সাহসের জোরে পান তিনি খোদার খাস্-মহলের যাবার সিলমোহর।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল ১৯৪৪ (চৈত্র ১৩৫০-বৈশাখ ১৩৫১) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪৪ বৎসর ১১ মাস ।
     
  • রেকর্ড: টুইন [এপ্রিল ১৯৪৪ (চৈত্র ১৩৫০-বৈশাখ ১৩৫১)। এফটি ১৩৯৩৭। শিল্পী: দুলি বিবি।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। ১১০৬ সংখ্যক গান।
     
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। ধর্মাঙ্গ। ধর্মাচরণ।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।