আমি মৃতের দেশে এনেছি রে মাতৃ নামের গঙ্গা ধারা (ami mriter deshe enechi re)
আমি মৃতের দেশে এনেছি রে মাতৃ নামের গঙ্গা ধারা।
আয় রে নেয়ে শুদ্ধ হবি অনুতাপে মলিন যারা॥
আয় আশাহীন ভাগ্য হত
শক্তি-বিহীন পদানত,
(আয় রে সবাই আয়),
এই অমৃতে, আয়, উঠ্বি বেঁচে জীবন্মৃত সর্বহারা॥
ওরে এই শক্তির গঙ্গা-স্রোতে
অনেক আগে এই সে-দেশে,
মৃত সগর-বংশ বেঁচে উঠেছিল এক নিমেষে।
এই গঙ্গোত্রীর পরশ লেগে
নবীন ভারত উঠ্ল জেগে,
এই পুণ্য স্রোত ভেঙেছিল ভেদবিভেদের লক্ষ কারা॥
- ভাবসন্ধান: এই গানটি শুরু হয়েছে- পৌরাণিক কাহিনির স্বর্গ থেকে মর্তে গঙ্গার অবতরণের প্রেক্ষাপটএর ইঙ্গিত দিয়ে। মহাভারতের মতে- অযোধ্যার সগর রাজার অশ্বমেধ যজ্ঞের অশ্ব উদ্ধার করতে গিয়ে, তাঁর ষাট হাজার পুত্র কপিল মুনির রোষে ভষ্মীভূত হন। সগরের পৌত্র অংশুমান এই অশ্বকে উদ্ধার করেন এবং কপিল মুনির কাছে ভষ্মীভূত সগর-পুত্রদের উদ্ধারের উপায় জেনে আসেন। এই উপায়টি হলো- যদি স্বর্গের গঙ্গানদীকে পৃথিবীতে এনে- এই ভষ্মের উপর দিয়ে প্রবাহিত করা যায় তবে এই পুত্ররা জীবিত হয়ে উঠবেন ।
পরাধীন ব্রিটিশ ভারত কবির কাছে হয়ে উঠেছিল মৃতের দেশ। কবি এই মৃতদেশকে সজীব করে তোলার জন্য গঙ্গাধারার মতো 'স্বাধীনতা ও সাম্যের' বাণীকে এক মৃতসঞ্জীবনী সুধাকে রূপাকার্থে তুলে এনেছেন এই গানে। তাই এই স্রোতধারায় অবগাহন করে, পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে নব জীবন লাভের জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করো হয়েছে এই গানে।
কবি ডাক দিয়েছেন পরাধীন ভারতের আশাহীন, ভাগ্যহত, শক্তি-বিহীন, পদানতদের। ডাক দিয়েছেন সেই সর্বহারাদের যাঁরা অত্যাচারে নিষ্পেষণে জীবন্মৃত দশায় রয়েছেন। সাম্যের স্রোতধারায় যেন তাঁরা হয়ে উঠতে পারেন অমৃত প্রেমময় জীবনের অধিকারী।
উদাহরণ হিসেবে কবি এই গানের সঞ্চারী ও আভোগে- মৃত সগর-বংশধরদের গঙ্গা-জলস্পর্শের কাহিনি উপস্থাপন করেছেন উপমা হিসেবে। কবি সাম্যের অমোঘ দর্শনকে গঙ্গানদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গোত্রী সরোবরের জলধারারা সাথে তুলনা করেছেন। বিল্বের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত বিপ্লবীরা, পরাধীন ব্রিটিশ ভারতের মুক্তির উদ্দীপনা জেগে উঠেছিল এই গঙ্গোত্রীর পরশে। তারা সাম্যের পুণ্য স্রোতে ভেঙেছিল ভেদবিভেদের লক্ষ কারাগার। তাই ভারতবাসী স্বাধীনতা আন্দোলনে উজ্জীবিত হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইন্সটিটিউট, মাঘ ১৪১৭, ফেব্রুয়ারি ২০১১) নামক গ্রন্থের ১১৩৭ সংখ্যক গান।
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: স্বদেশ