আমি যদি আরব হ'তাম — মদিনারই পথ (ami jodi arob hotam)
আমি যদি আরব হ'তাম — মদিনারই পথ।
এই পথে মোর চ'লে যেতেন নূর নবী হজরত॥
পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
আমি ঝর্না হয়ে গ'লে যেতাম অম্নি পরম সুখে ;
সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিয়ে যেতাম কোহ্-ই-তূরে,
দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত॥
মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল'য়ে
আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার বক্ষে এসে
চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহ্ম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি পরমভক্তের বন্দনা। কবি নবির পরম সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করার জন্য, রূপকল্পের মধ্য দিয়ে নবির ধর্মাচার এবং জীবনাচারের অংশ হতে চেয়েছেন।
ইসলামের সূচনালগ্ন বিধর্মীদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশে নবি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। কবি কল্পাশ্রয়ে ভাবেন- যদি তিনি আরব দেশের মক্কা থেকে মদিনার পথ হতে পারতেন, তবে পথরূপী কবির বুকের উপর দিয়ে নবি হেঁটে যেতেন। তাঁর পয়জারের (আরবদেশের পায়জামার মতো নিম্নাঙ্গে পরিধেয় পোশাক) স্পর্শ লাগতো কবির কঠিন বুকে। আর সে পয়জারের কোমল স্পর্শে কবি গলে গিয়ে ঝর্না হয়ে যেতেন পরম সুখে। তাঁর পদচিহ্ন বুকে নিয়ে কবি পালিয়ে যেতেন কোহ্-ই-তূরে (তুর বা সিনাই পর্বত, মুসা আঃ এই পর্বতে থাকার সময় নবুয়ত লাভ করেছিলেন) পালিয়ে যেতেন। তাঁর বুকের এই চিহ্নকে তিনি রাত্রি দিন জিয়ারত (নবীকে সালাম ও শুভেচ্ছা) করতেন।
কবি তাঁর কল্পলোকে দেখেছেন, নবির শিশু কন্যা ফাতিমা (রাঃ) নবির পদধূলো নিয়ে খেলা করতেন। আর পথরূপী কবি ফুলের রেণুর মতো পথধূলি হয়ে সে পা থেকে ঝরে পড়তেন। কল্পলোকের বিহারে নবির দুই দৌহিত্র হাসান (রাঃ) ও হোসেন (রাঃ) হেসে হেসে নাচতো পথরূপী কবির বক্ষে। আর এমন সৌভাগ্যের আনন্দে তাঁর দুচোখ বেয়ে প্রবাহিত হতো- আনন্দনদী।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর (১৪ আশ্বিন ১৩৪৩)) তারিখে এইচএমভি [রেকর্ড] রেকর্ড কোম্পানীর সঙ্গে কবির চুক্তিপত্র হয়। সেই অনুযায়ী, ধারণা করা যায়, গানটি নজরুল ইসলামের ৩৭ বৎসর বয়সে রচনা হয়েছিল।
- রেকর্ড:
- ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার ১৪ আশ্বিন ১৩৪৩) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানীর সঙ্গে কবির চুক্তিপত্র হয়। এই চুক্তিপত্রে গানটি ছিল।
- এইচএমভি। ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭ (মাঘ-ফাল্গুন ১৩৪৩)। এন ৯৮৫৬। সাকিনা বেগম (হরিমতী)। সুরকার: কমল দাশগুপ্ত। [শ্রবণ নমুনা]
- [খালিদ হোসেন (শ্রবণ নমুনা)]
- পত্রিকা: বুলবুল। পৌষ ১৩৪৩ (ডিসেম্বর ১৯৩৬-জানুয়ারি ১৯৩৭)।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, একত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ/ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ] তৃতীয় গান। রেকর্ডের সাকিনা বেগম (হরিমতী)-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- সুরকার: কমল দাশগুপ্ত।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামী গান। নাত-এ-রসুল
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: কাহারবা
- গ্রহস্বর: র্সা