আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি (ami rochiachi nobo brojodham he murari)

আমি     রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
সেথা     করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী

মোর      কামনার কালীদহ করি মন্থন
            কালীয় নাগে হরি করিও দমন
আছে      গিরি-গোবর্ধন মোর অপরাধ
যদি        সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী

আছে      ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
আছে      অবিদ্যা পুতনা শোক্ দাবানল
আছে      শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগন
আছে      অসহায় রোদনের যমুনা-বারি।

আছে       জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
হরি         সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
তুমি        আসিলে হরি ব্রজে রাজেশ্বরী
আসিবেন  হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী    

  • ভাবসন্ধান: কবি তাঁর মানসলোকে এক নতুন ব্রজধাম সৃজন করেছেন। সে ব্রজধামে রয়েছে অশুভ শক্তিরূপে কালীদহের কালীয়নাগ, গিরিগবর্ধন, পুতনা। রয়েছে অত্যাচারের নির্মমতা, কলুষতার মায়া।  কবি কামনা করেন এ সবের জঞ্জাল ধ্বংস করে- তাঁর মনের ব্রজধামকে কৃষ্ণ তাঁর প্রেম লীলাভূমিতে পরিণত করুন। কবির বাসনা সেখানে গোলক-বিহারী কৃষ্ণ এসে তাঁর ব্রজলীলায় বিহার করবেন। 

    পৌরাণিক কাহিনিতে ব্রজধামের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, কবি সেই রূপে তাঁর মনোলোকের ব্রজধাম সাজিয়েছেন। কবির একান্ত কামনা- তাঁর মনের কামনার কালীদহকে (কামকুটিল দহ বা জলাশয়) মন্থন করে মনের সর্পরূপী কালীয় নাগকে দমন করে, তাঁকে পবিত্র করে তুলুন। মনের ব্রজধামে রয়েছে তাঁর গিরি-গোবর্ধনেরে মতো পাপ। তাঁকে যেন সেই পাপ-পর্বত সমূলে উৎপাটন করে, তাঁকে পাপমুক্ত করেন। তাঁর মনোলোকে দুরাচারী কংসের অনুচর হয়ে ষড়রিপ বিরাজ করে।  আছে ছলনাময়ী পুতনার মতো অবিদ্যধারিণী কু প্রবৃত্তি। কবি চান কৃষ্ণ তাকে ধ্বংস করে কবিকে মায়াজল মুক্ত করেন।

    কবির মনোলোকের ধেনুরা পৌরাণিক পবিত্র কল্যাণীয়া কামধেনু। আছে অসহায় মানুষের ক্রন্দনে প্লাবিত যমুনা, শাশ্বত প্রেমের বাধাস্বরূপ জটিলতা ও কুটিলতা। শুধু প্রেম-প্রদায়িনী আনন্দ-রাধা নেই। কবি মনে করেন- তাঁর মনোলোকের ব্রজধামে যদি কৃষ্ণ সকল অত্যাচার, কলুষতা, মায়া দমন করেন, তাহলে  আনন্দ-রাধা আপনা-আপনি আসবেন। তাহলেই রাধাকৃষ্ণের মিলনে কবির নব ব্রজধাম হয়ে উঠবে নব আনন্দধাম।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। বুলবুল পত্রিকার ১৩৪০ বঙ্গাব্দের পৌষ  ( ডিসেম্বর ১৯৩৩- জানুয়ারি ১৯৩৪) সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৬ মাস।
     
  • পত্রিকা: বুলবুল। পৌষ ১৩৪০ (ডিসেম্বর ১৯৩৩- জানুয়ারি ১৯৩৪)
  • রেকর্ড: সেনোলা। সেপ্টেম্বর ১৯৪০ (ভাদ্র -আশ্বিন ১৩৪৭)। কিউএস ৪৮৬। শিল্পী: দিলীপকুমার রায় (রজনীকান্ত সেনের দৌহিত্র)। সুরকার: নজরুল ইসলাম।
  • গ্রন্থ:
    • নজরুল-রচনাবলী জন্মশতবর্ষ সংস্করণ একাদশ খণ্ড [বাংলা একাডেমী ঢাকা। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭, ২৫শে মে ২০১০] অগ্রন্থিত গান ১৯। পৃষ্ঠা: ২২৪
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১১৮]
    • নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি ঊনপঞ্চাশতম খণ্ড । স্বরলিপিকার: ইদ্‌রিস আলী। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, কার্তিক ১৪২৬। নভেম্বর ২০১৯। পৃষ্ঠা: ৫৯-৬১ [নমুনা]
       
  • স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: ইদ্‌রিস আলী। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত গানের [শিল্পী: দিলীপকুমার রায়] সুরানুসারে স্বরলিপিটি নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি ঊনপঞ্চাশতম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। [নমুনা]
     
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম, বৈষ্ণব, কৃষ্ণ, প্রার্থনা
    • সুরাঙ্গ: বাউলাঙ্গ
    • তাল: কাহারবা
    • গ্রহস্বর:

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।