আমি রব না ঘরে (ami robo na ghore)
আমি রব না ঘরে।
ওমা ডেকেছে আমারে হরি বাঁশির-স্বরে॥
আমি আকাশে শুনি আমি বাতাসে শুনি
ওমা নিশিদিন বাঁশরি বাজায় সে গুণী,
ওমা তাহারি সুরের সুরধুনী বহে অন্তরে বাহিরে ভুবন ভ’রে॥
যবে জাগিয়া থাকি,
হেরি’ শ্রীহরির পদ্ম-পলাশ আঁখি।
যদি ভুলিয়া কভু আমি ঘুমাই মাগো
সে-ঘুম ভেঙে দেয় বলে, জাগো জাগো,
সে শয়নে স্বপনে মোর সাধনা গো ─
আমি নিবেদিতা মাগো তাহারি তরে॥
- ভাবসন্ধান: কোনো এক কৃষ্ণা-সাধিকার, কৃষ্ণের কাছে নিজেকে সমর্পণের তীব্র আকুতি এই গানে ফুটে উঠেছে। তাঁর কৃষ্ণ-প্রেমের গভীর তৃষ্ণার কথা ব্যক্ত করেছেন তাঁর স্নেহময়ী মাকে।
এই সাধিকা সদা-সর্বদা আকাশে বাতাশে কৃষ্ণের মোহন বাঁশীর ধ্বনি শুনতে পান। কারণ তাঁর অন্তর-বাহির একাকার করে দিয়েছে তাঁর বাশীর সুর। তাই সে বাঁশীর সুরের মোহন আহ্বানে তিনি গৃহত্যাগিনী হয়ে কৃষ্ণের সাথে মিলিত হতে চান।
সাধিকার সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে কৃষ্ণ যেন তাঁর মনোলোকে বিরাজ করেন। তিন যখন জেগে থাকেন, তখন, তাঁর চোখে ভেসে ওঠে কৃষ্ণের পদ্ম-পলাশ আঁখি। যদি তাঁকে ভুলে কখনো পরেন তিনি, কৃষ্ণ তাঁকে জাগিয়ে তোলেন তাঁরই মনোলোকের প্রেম মন্দিরে। নিবেদিতা সাধিকার শয়ন-স্বপনের একমাত্র সাধনার ধন কৃষ্ণ, তাঁর কাছেই তাঁর চূড়ান্ত ও শেষ সমর্পণ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের মে (বৈশাখ -জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৯) মাসে মেগাফোন রেকর্ড থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। নজরুল ইসলামের ছিল ৪২ বৎসর ১১ মাস অতিক্রান্ত বয়সে গানটি রচিত হয়েছিল।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১১৩৮
- রেকর্ড: মেগাফোন [মে ১৯৪২ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৯)]। জেএনজি ৫৬২৮। শিল্পী: রমা পাল।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণবসঙ্গীত। কৃষ্ণ। আত্ম-নিবেদন