আমি হব মাটির বুকে ফুল (ami hobo matir buke phul)
আমি হব মাটির বুকে ফুল
প্রভাত বেলা হয়ত পাব তোমার চরণ মূল॥
ঠাঁই পাব গো তোমার থালায়
রইব তোমার গলার মালায়
সুগন্ধ মোর মিশবে হাওয়ায় আনন্দ আকুল॥
আমার রঙে রঙিন হবে বন
পাখির কণ্ঠে আনব আমি গানের হরষণ।
নাই যদি নাও তোমার গলে
তোমার পূজা বেদীর তলে
শুকাবো গো সেই হবে মোর মরণ অতুল॥
- ভাবসন্ধান: সনাতন হিন্দু ধর্মের আদর্শে পরম আরাধ্য সত্তার উদ্দেশ্যে রূপকতার আশ্রয়ে আত্ম-নিবেদন করা হয়েছে এই গানে। এই গানের সাধক পরমসত্তার মতোই পরমসাধক। এই সাধনা ও ভক্তির শক্তিতে তিনি সংসারের এই মাটির জগতে ফুল হয়ে নিজেকে প্রস্ফুটিত করতে চান, শুধুই এই পরমসত্তার কাছে আত্ম-সমর্পণের জন্য। পর্মসত্তার পরম করুণার থালায় তিনি নিজেকে পুস্পর্ঘ হয়ে নিজেকে নিবেদন করতে চান তিনি, নিজেক দেখতে চান তাঁর গলার পুষ্পমাল্যের গ্রথিত পুষ্পরূপে। এই আত্ম-সমর্পণে তিনি নিজেকে খুঁজে পেতে চেয়েছেন, পুষ্প-সৌরভের আমোদিত আনন্দে উদ্বেলিত সাধকরূপে।
সাধক মনে করেন, তাঁর মনের ভক্তি ও প্রেমের রঙে রঙিন হয়ে উঠবে- পর্মসত্তার সৌন্দর্যবন, পাখির কণ্ঠে ধ্বনিত হবে সুরের আনন্দধারা। পর্মসত্তার কাছে তাঁর বাসনা হয়ে উঠেছে সত্যের অহঙ্কারে। তিনি গ্রহণ করুন বা না করুন, এই পরম সাধক পরমসত্তা সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হতে চান না। তাই তিনি যদি তাঁকে গালার মালায় স্থান নাও দেন, তবু তিনি তাঁকে ছেড়ে যাবেন না। তিনি শুধু পরম ভক্তিতে পড়ে থাকতে চান- তাঁর আরাধ্য পরমসত্তার পায়ের তলে। সেখানে যদি তাঁর পূজার পুষ্প অবহেলায় ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যায়, সাধকের কাছে তা হয়ে অতুল গৌরবের মৃত্যু।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৫) মাসে টুইন রেকর্ডে কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ৩ মাস।
- রেকর্ড: টুইন। সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৫)। এফটি ১২৫৩০। শিল্পী: কল্যাণী চট্টপাধ্যায়। [নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: সুধীন দাশ। নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি চতুর্দশ খণ্ড (নজরুল ইন্সটিটিউট)। আষাঢ় ১৪০৩ (জুন ১৯৯৬)। দ্বিতীয় গান। রেকর্ডে কল্যাণী চট্টপাধ্যায়ের গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- সুরকার: রঞ্জিত রায়
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন ধর্ম। সাধারণ। আত্ম-নিবেদন।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: সা