(আমি) হাত তুলেছি তোর পানে মা ( [ami] hat tulechi tor pane ma)

(আমি) হাত তুলেছি তোর পানে মা (তুই) মোর হাত ধরবি বলে,
(তুই) ভিক্ষা কেন দিস্‌ মা হাতে হাত বেঁধে রাখ্‌ চরণ-তলে।
আমি ভিক্ষা পেয়ে চলে যাব আসিনিত সে আশাতে॥
তুই যবে তাহ দিস মা ছেড়ে
চোরে প্রসাদ নেয় মা কেড়ে
তাইত মাগো ভিক্ষা পেয়েও দাঁড়িয়ে থাকি আঙিনাতে॥
পথ যে আমার ফুরিয়ে গেছে জননী তোর কোলে এসে
(আমায়) এখন শুধু ধর মা বুকে পুত্র বলে ভালোবেসে।
মা যেমনি তোর কোলে যাব
নিত্য প্রেম আনন্দ পাব্‌
দেখ্‌ব পূর্ণ চাঁদ উঠেছে মা তোর রূপের আঁধার রাতে॥

  • ভাবসন্ধান: মাতৃরূপিণী শ্যামার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণের আকুতি এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে। সাধক কবি শিশুর মতো দুহাত মেলে ধরেন, যেন মাতৃরূপণী দেবী সস্নেহে সে হাত ধরে তাঁকে কোলে তুলে নেন। কবি ভিক্ষুকের মতো মায়ের কাছে কোনো প্রার্থনা ভিক্ষা করেন না। বরং তিনি চান মা যেন তাঁর স্নেহ পদতলে বেঁধে রাখেন। অন্যান্য ভক্তরা যেমন করে, দেবীর কাছে প্রার্থনা রেখে চলে যান।  কবি তেমন কোনো প্রত্যাশা পুরনের প্রার্থনা নিবেদেনের জন্য দেবীর কাছে আসে নি। তাঁর চাওয়া শুধুই দেবীর সান্নিধ্য।
     
    কবি আক্ষেপ করে বলেন- তিনি যখন তাঁকে বর দিয়ে হাত ছেড়ে দেন, তখন লোভীরা তাঁর প্রসাদ চুরি করে নেয়। এই বর কোনো স্থায়ী এনে দেয় না। বরং প্রসাদ চুরির আশঙ্কা মনকে অশান্ত করে রাখে। তাই তিনি দেবীর দান লাভ করার পরও, তাঁর অঙিনাতে দাঁড়িয়ে থাকেন চিরন্তন দানের অপেক্ষায়। আর সে আকাঙ্ক্ষা শুধুই সস্নেহ কোল।

    কবির জীবনের চলার পথের শেষ গন্তব্য হলো মাতৃরূপিণী দেবীর কোল। তাঁর আর কোনা যাওয়ার জায়গা নেই। তাই তাঁর একান্ত প্রার্থান, যেন দেবী তাঁকে অপত্যস্নেহে বুকে আশ্রয় দেন। কবি মনে করেন- জীবনের সকল যন্ত্রণা নিরসনের স্থান হলো মায়ের কোল। সেখানেই বিরাজ করে তাঁর নিত্যদিনের আনন্দ। দেবীর কালো রূপের ভিতরে ফুটে ওঠে তাঁর পূর্ণিমার মতো জ্যোতির্ময় রূপ। কবি সে পূর্ণচাঁদের মহিমা দেখার বাসনায় মায়ের কোলে স্থান পাওয়া অপেক্ষায় থাকেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ২১৩২। পৃষ্ঠা: ৬৪২]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্তসঙ্গীত। শ্যামাসঙ্গীত। আত্ম-নিবেদন

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।