আমিনা দুলাল এসো মদিনায় ফিরিয়া আবার, ডাকে ভুবনবাসী (amina dulal esho modinae firiya abar)
আমিনা দুলাল এসো মদিনায় ফিরিয়া আবার, ডাকে ভুবনবাসী।
হে মদিনার চাঁদ! জ্যোতিতে তোমার, আঁধার ধরার মুখে ফোটাও হাসি॥
নয়নেরই পিয়ালায় আনো হজরত
তরাইতে পাপীরে খোদার রহমত,
আবার কাবার পানে ডাকো সকলে বাজায়ে মধুর কোরানের বাঁশি॥
শোকে বেদনার পাপের জ্বালায় হের মৃত-প্রায় আজি বিশ্ব নিখিল,
খোদার হাবিব এসে বাঁচাও বাঁচাও, বসাও খুশির হাট, তাজা কর দিল্।
প্রেম-কওসর দিয়ে বেহেশ্ত্ হতে
মেহেদীরে পাঠাও দুঃখের জগতে,
দুনিয়া ভাসুক পুন পুণ্য-স্রোতে শোনাও আজান পাপ-তাপ-বিনাশী॥
- ভাবসন্ধান: ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহম্মদ (সাঃ), বিধর্মীদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনাতে চলে যান। এরপর মদিনা হয়ে উঠেছিল ইসলাম ধর্মের সুতিকাগার।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতে- এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর পার্থিব কেন্দ্র স্থল কাবাগৃহ। তাই কাবাকে বলা হয় আল্লাহর ঘর। বিধর্মীদের প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান ছিল- কাবাগৃহের দিকে আসার ডাক। হিজরতে আসা নবি মদিনা থেকে যে ইসলামের বাণী প্রচার করেছিলেন, তা ছিল মূলত কাবার দিকে মুখ ফেরানোর আহ্বান।
বিশ্বাসীর আকুল আহ্বান, পাপে নিমজ্জিত বিশ্বকে উদ্ধারের জন্য, মদিনাবাসী আমিনার আদরের পুত্র মুহম্মদ (সাঃ)
আবার ফিরে আসুন। আবার মদিনার চাঁদ-রূপী নবির তাঁর জ্যোতিতে অজ্ঞানতরা অন্ধকার দূর করে, জ্ঞানের আলো প্রস্ফুটিত করুন।
বিশ্ববাসীর কাছে নবির নয়ন রহমতের পেয়ালা স্বরূপ। খোদার রহমত পূর্ণ দৃষ্টিতে পাপীকে উদ্ধার করার জন্য রহমতের পেয়ালা নিয়ে, নবি আবার ফিরে আসুন এবং মদিনা থেকে নবি পবিত্র কাবাগৃহের দিক মুখ ফেরাতে যে মধুর কুরআনের সুমধুর বাঁশির সুর তুলেছিলেন, তা আবার ধ্বনিত হোক।
পাপে নিমজ্জিত বিশ্ববাসী, আজ শোক-বেদনা ও পাপের জ্বালায় মৃত-প্রায়। তাই বিশ্বাবাসীর সকাতর অনুনয়, যেন খোদার হাবিব (আল্লাহর বন্ধু মুহম্দ (সাঃ)) এসে তাঁদের পুনরু্জ্জীবিত করুক। আবার বসুক ইসালামের মহামিলনের খুশির হাট, সতেজ হোক হৃদয়।
বিশ্ববাসীর আহ্বান দুঃখের জগতে মেহদীকে (মেহেদ আঃ, যিনি বিশ্বকে পাপমুক্ত করার জন্য শেষ জামানয় পৃথিবীতে আসবেন) তিনি যেন প্রেরণ করেন বেহেশ্তের প্রেমপূর্ণ পূণ্য কওসর দিয়ে। জগৎ আবার ভাসুক পুণ্য-স্রোতে, ধ্বনিত হোক পাপ-তাপ-বিনাশী আজানের ধ্বনি॥
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৪) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড করা হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৯ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১১০৯ সংখ্যক গান।
- রেকর্ড: টুইন [মার্চ ১৯৩৮ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৪)। এফটি ১২৩০৫। শিল্পী: আব্দুল লতিফ। সুর: কমল দাশগুপ্ত।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল। প্রার্থনা