আয় বিজয়া আয় রে জয়া উমার লীলা যা রে দেখে (ay bijoya ay re joya)

আয় বিজয়া আয় রে জয়া উমার লীলা যা রে দেখে।
সেজেছে সে মহাকালী চোখের কাজল মুখে মেখে॥
        সে ঘুমিয়েছিল আমার কোলে
        জেগে উঠে কেঁদে বলে,
আমায় কালী সাজিয়ে দে মা ছেলেরা মোর কাঁদছে ডেকে॥
চেয়ে দেখি মোর উমা নাই নাচে কালী দিগম্বরী,
হুঙ্কার দেয় কোটি গ্রহের মুণ্ডমালা গলায় পরি’।
        আমি শুধু উমায় চিনি
        এ কোন্ মহামায়াবিনী,
কালোরূপে বিশ্বভুবন আকাশ-পবন দিল ঢেকে॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে অসুর বিনাশিনী কালীর রূপ বর্ণনা করা হয়েছে-  তাঁর মা মেনকার বচনে। মেনকা পার্বতীর দুই সখী জয়া ও বিজয়াকে ডেকে পার্বতীর অসুরবিনাশিনী লীলা দর্শন করার আহ্বান করেছেন।

    মা মেনকার কোলে ঘুমিয়েছিলেন জগন্মাতা পার্বতী। জগতে আসুরিক অপশক্তির অত্যাচারে তাঁর সন্তানদের দুর্দশা দেখে, ব্যথিত পার্বতী মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা দশা থেকে জেগে উঠেন। তিনি মা মেনকাকে অসুর-বিনাশিনী কালীর সাজিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরক্ষণে তিনি দেখেন পার্বতী তাঁর কোলে নেই।

    পার্বতী কালী রূপ ধারণ করার আগে তাঁর চোখের কাজল মুখে মেঘে- মহাকালী রূপ ধারণ করেছেন। তিনি অসুর-বিনাশিনী নগ্নরূপা কালী হয়ে জগৎ জুড়ে নাচছেন। তিনি কোটি কোটি নরমুণ্ডে গাঁথা মালা গলায় ধারণ করে প্রলয়ঙ্করী হুঙ্কার ছাড়ছেন। মেনকা জয়া-বিজয়াকে ডেকে বলছেন- পার্বতীর এই রূপ আর কেউ না চিনুক, তিনি পার্বতীর এই বিশ্বভুবন আচ্ছন্ন করা মায়াবিনী রূপ ঠিকই চিনেছেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। 
     
  • গ্রন্থ:
    • রাঙা জবা। কাজী নজরুল ইসলাম। প্রথম সংস্করণ। হরফ প্রকাশনী, কলিকাতা [১৪ এপ্রিল ১৯৬৬)। ১লা বৈশাখ ১৩৭৩] গান সংখ্যা ৭৭। পৃষ্ঠা: ৮৫।
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১১৪২
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্তসঙ্গীত। শ্যামাসঙ্গীত। রূপবর্ণন

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।