আর কিছু ত’ জানি না মা (ar kichu to jani na maa)
আর কিছু ত’ জানি না মা ঐ চরণে শরণ দে মা।
(আমি) জানি শুধু তুই মা আমার আপন জনে চায় না কে মা॥
রজনী আঁধার হলে
রাখিস মা ফের আঁচল তলে,
দেখিস্ যেন অবোধ শিশু বেঘোরে প্রাণ হারায় না মা॥
সারা দিনের খেলায় শেষে
ফিরবো যখন মলিন বেশে,
(ফিরবো যখন কেঁদে হেসে)
আদর ক’রে কোলে নিতে তুই ছাড়া বল্ আছে কে মা॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে জগৎজননী শ্যামার কাছে সাধক কবির একনিষ্ঠ আত্মনিবেদনের আকাঙ্ক্ষা উপস্থাপিত হয়েছে। মাতৃরূপিণী শ্যামার কাছে তাঁর চরণে স্থান পাওয়া ছাড়া, সাধক কবির আর কোনো বাসনা নেই। কবি মনে করেন শ্যামাই তাঁর কাছে পরম আপন জন। তাঁর এই চাওয়ার মধ্যে কোনো অতিরঞ্জন নেই। সন্তানের দাবী নিয়ে তাই শ্যামার কাছেই তিনি প্রশ্ন রেখেছেন - 'আপন জনে চায় না কে মা'।
যদি জগৎজুড়ে কলুষতার কালি মাখা অন্ধকার নেমে আসে, তখন জননী শ্যামা যেন তাঁকে পায়ের কাছে স্থান দেন। কবির একান্ত কামনা, বোধজ্ঞানহীন তাঁকে যেন শ্যামা বেঘোরে প্রাণ হারানো থেকে রক্ষা করেন।
যাপিত-জীবনের সংসারের খেলার শেষে, পাপ কলুষতায় মলিন হয়ে কবি যখন ঘরে (পরলোকের ঘর) ফিরবেন, তখন শ্যামা যেন তাঁকে অপত্যস্নেহে কোলে আশ্রয় দেন। কবি মনে করেন, সেই অসহনীয় অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য মাতৃরূপিণী শ্যামা ছাড়া আর কেউ নেই।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ ১৩৪৬) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৭ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ২৪৯৯। পৃষ্ঠা: ৭৭০-৭৭১]
- রেকর্ড: এইচএমভি [জানুয়ারি ১৯৪১ (পৌষ-মাঘ ১৩৪৭)। এন ২৭০৭৬ শিল্পী: হরেন্দ্রনাথ। চট্টোপাধ্যায়।]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শ্যমাসঙ্গীত। আত্ননিবেদন।