আল্লা নামের দরখ্তে ভাই ফুটেছে এক ফুল (allah namer dorkhote bhai )
আল্লা নামের দরখ্তে ভাই ফুটেছে এক ফুল।
তাঁরে কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল॥
পয়গম্বর ফেরেশ্তা হুর পরী ফকির ওলি
খুঁজে জমিন আসমান ভাই দেখতে সে ফুল-কলি,
সে-ফুল যে দেখেছে সেই হয়েছে বেহেশ্তি বুলবুল॥
আল্লা নামের দরিয়াতে ভাই উঠলো প্রেমের ঢেউ
তারে কেউ বলে আমিনা দুলাল, মোহম্মদ কয় কেউ,
সে-ঢেউ যে দেখেছে সে পেয়েছে অকূলের কূল॥
আল্লা নামের খনিতে ভাই উঠেছে এক মণি
কোটি কোহিনূর ম্লান হয়ে যায় হেরি’ তার রোশ্নি,
সেই মণির রঙে উঠল রেঙে ঈদের চাঁদের দুল
তারে কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর গুণকীর্তন করেছেন নানা রূপকতার মধ্য দিয়ে। কবি নবিকে এই গানে ফুল, সাগরের ঢেউ, খনির মূলবান রত্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। লোক-লোকান্তরে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন- মোস্তফা নবী, রসুল, আমিনা দুলাল, মোহম্মদ নামে। সেই সাথে এই গানে তাঁকে দেখার কারণে যে মানুষ যে সৌভাগ্য লাভ করবেন, তাই বর্ণনা করা হয়েছে। এই দেখাটাও রূপকতার আশ্রয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত এ দেখাটা নবিকে দৈহিকভাবে দেখা নয়- এ দেখাটা তাঁর আদর্শকে দেখা।
গানের স্থায়ীতে কবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন- আল্লাহ নামের দরখ্ত-এ (বৃক্ষে) একটি ফুল ফুটেছে, তাঁকে কেউ মোস্তফা নবী, কেউ বা রসুল বলে থাকেন। দ্বিতীয় অন্তরাতে রসুলরূপী এই ফুলকে দেখার সবার আকুলতাকে প্রকাশ করেছেন এমন কিছু নামোল্লেখ করেছেন। এই তালিকায় আছেন- অন্যান্য পয়গম্বর, ফেরেশ্তা, হুর, পরী ফকির ও ওলিরা। তাঁকে খুঁজে বেড়ায় আসমান ও জমিন (আকাশ ও ভূমি)। এরই ভিতরে যাঁরা তাঁকে দেখেছেন, তাঁরা হয়ে গেছেন বেহেস্তের বুলবুলের মতো। কারণ কবি মনে করেন- তাঁকে দেখা এতটাই সৌভাগ্যের যে, যিনি তাঁকে দেখবেন তিনি পাপমুক্ত হয়ে বেহেস্তে স্থান পাবেন গানের পাখি বুলবুলের মতো।
তৃতীয় অন্তরাতে রূপকতার মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে- আল্লাহ নাম যদি হয় সাগর, তাহলে নবি সে সাগরের বুকে হয়ে তরঙ্গ বা তরঙ্গের কারণ। এই ঢেউকে কেউ বলেন আমিনার (নবির মায়ের নাম) আদুরে পুত্র, কেউ সরসারি বলেন মোহম্মদ। কবি মনে করেন- যিনি এই ঢেউকে একবার দেখতে পেয়েছেন- তিনি পাপের অসীম সাগর পেরিয়ে পূণ্য-তীরের সন্ধান পেয়েছেন।
চতুর্থ অন্তরাতে রূপকতার মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে- নবি আল্লাহ নামের খনিতে একটি মূলবান রত্ন বিশেষ। এই রত্ন কোটি কোহিনুরের (বিখ্যাত হীরক খণ্ড, বর্তমানে এটি ব্রিটিশ রাণীর মুকুটে শোভা পাচ্ছে) চেয়ে উজ্জ্বল। কবি মনে করেন- নবির ঔজ্জ্বল্যে কোহিনুরের ঔজ্জ্বল্য ম্লান হয়ে গেছে। এই মণির রঙেই আকাশের দুলের মতো ঈদের চাঁদ রঙিন হয়ে উঠেছে। তাঁকে কেউ বলেন- মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় নি। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭) মাসে, সেনোলা রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড করেছিল। গানটি প্রকাশিত হয়েছিল নজরুল ইসলামের ৪০ বৎসর ১১ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার শেষের দিকে।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১১১০ সংখ্যক গান।
- রেকর্ড: মেগাফোন [মে ১৯৪০ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭)। জেএনজি ৫৪৭১। শিল্পী: অনন্তবালা বৈষ্ণবী। সুর: নজরুল ইসলাম]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল