আল্লাতে যাঁর পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান (allah te jar purno iman)
আল্লাতে যাঁর পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ অভেদ যাঁহার জীবন মৃত্যু জ্ঞান॥
(যাঁর) মুখে শুনি তৌহিদের কালাম —
ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।
যাঁর দীন দীন রবে কাঁপিত দুনিয়া জীন পরী ইনসান্॥
স্ত্রী পুত্রে আল্লারে সঁপি জেহাদে যে নির্ভীক।
হেসে কোরবানি দিত প্রাণ হায় আজ তারা মাগে ভিখ্।
কোথা সে শিক্ষা আল্লাহ্ ছাড়া,
ত্রিভুবনে ভয় করিত না যাঁরা।
আজাদ করিতে এসেছিল যাঁরা সাথে লয়ে কোর্আন্॥
- ভাবসন্ধান: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসই ইসলাম ধর্মের ইমানের ভিত্তি। আল্লার প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজেকে আল্লার কাছে সমর্পণই হলো- আল্লার প্রতি পূর্ণ ইমান। জীবন-মৃত্যুতে কোনো ভেদ নাই এমন আরিফ (জ্ঞানী) ইসলামি বিশ্বে কাউকে কবি খুঁজে পান না। ইমানহীন মুসলমানে ইসলামি জগৎ ভরে গেছে- এই আক্ষেপ থেকে কবি গানটি রচনা করেছিলেন। এই আক্ষেপই পুরো গানে নানা ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এই গানে।
ইসলামের ঊষালগ্নে, যাঁদের মুখে তওহিদের কালাম শুনে- মৃত্যুও ভয় পেতো, যাঁরা দীন (বিচার, রীতিনীতি এবং ধর্ম)-এর আদর্শিক বাণীতে জগৎ এবং জিন-পরি ও মানুষ ভয়ে কম্পিত হতো। তাঁরাই ছিলেন ইমানদার মুসলমান।
স্ত্রী-পুত্রকে আল্লাহর হাতে সঁপে দিয়ে, যাঁরা নির্ভিক চিত্তে ধর্মরক্ষার জন্য প্রাণ কোরবানি (উৎসর্গ) করতো, তাঁরাই এখন প্রাণের জন্য ভিক্ষা প্রার্থনা করে। যাঁরা আল্লাহ ছাড়া ত্রিভুবনে কাউকে ভয় পেতো না, কুরআনের বাণী নিয়ে মানুষের অজ্ঞানতা ও ধর্মহীনতা থেকে আজাদ (মুক্ত, স্বাধীন) করার জন্য এসেছিলেন। তাঁর আজ কোথায়? এই আক্ষেপের মধ্য দিয়েই গানটির সমাপ্তি ঘটেছে।
- তৌহিদ: আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে বিশ্বাস করা, এবং সকল উপাসনা কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য।
- দীন: ইমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং পালিত ধর্ম।
- রচনাকাল: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৮) টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে এই গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪২ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড: টুইন। জুন ১৯৪১ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৮)। এফটি ১৩৫৯৬। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ। [শ্রবণ নমুনা]
রেকর্ডে রচয়িতার নাম লেখা হয়েছিল- পীর-কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, একত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ/ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ] চতুর্থ গান। আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, একত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ/ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ] চতুর্থ গান। আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। ধর্মাঙ্গ। ইমান।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: না