আল্লাহ থাকেন দূর আরশে, নবীজী রয় প্রাণের কাছে (allah thaken dur akashe)
আল্লাহ থাকেন দূর আরশে, নবীজী রয় প্রাণের কাছে।
প্রাণের কাছে রয় যে প্রিয়, সেই নবীরে পরান যাচে॥
পয়গম্বরও পায় না খোদায়
মোর নবীরে সকলে পায়,
নবীজী মোর তাবিজ হ’য়ে আমার বুকে জড়িয়ে আছে॥
খোদার নামে সেজ্দা করি, নবীরে মোর ভালোবাসি,
খোদা যেন নূরের সূরয, নবী যেন চাঁদের হাসি।
নবীরে মোর কাছে পেতে
হয় না পাহাড়-বনে যেতে,
বৃথা ফকির-দরবেশ মরে পু’ড়ে খোদার আগুন-আঁচে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে আল্লাহ ও রসুলের বন্দনা উপস্থাপিত হয়ে রসুলে বর্ণনা। মূলত আল্লার রূপ বন্দনা যা এই গানে রয়েছে, আল্লাহর গুণের সাথে নবির গুণের তুলনার্থে।
শরিয়ত পন্থী মুসলমানরা মনে করেন- আল্লাহ থাকেন সপ্তম আসমানে তাঁর আরসে। আর তাঁর প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সাঃ) থাকেন মানুষের হৃদয়ে। সাধারণ মুসলমানরা দূর আরসের আল্লাহকে প্রত্যক্ষ করতে পারেন না। কিন্তু তাঁরই প্রতিনিধি হিসেবে নবীকে মুসলমানরা কাছে পান- তাঁর কাছে প্রেরিত ঐশী বাণী এবং কর্মময় জীবনাদর্শে মধ্য দিয়ে। আল্লাহকে পয়গম্বররাই আল্লাহকে দেখতে পান না, কিন্তু নবিজিকে সহজেই দেখতে পান। কারণ তাঁর উম্মতরা কাছে দিয়ে আছেন। যেন নবি তাঁর উম্মতদের সাথে তাবিজের মতো প্রাণের ভিতরে আষ্টপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছেন।
খোদাকে পরমসত্তা হিসেবে মুসলমানরা সেজদা (অবনত মস্তকে পরম আনুগত্য প্রকাশ) করেন। সেজদায় রয়েছে আল্লার প্রতি পরম আনুগত্যের প্রকাশ, রয়েছে ভয় ও ভক্তি। পক্ষান্তরে নববজিকে মুসলমানরা সেজদা করেন না, ভয়হীন চিত্তে তাঁকে জীবনের কাণ্ডারী হিসেবে ভালোবাসেন। তিনি প্রভু নন, নিতান্তই প্রাণের বন্ধু। আল্লার জ্যোতি সূর্যের আলোর মতো, তাঁর রূপ সাধারণ চোখে দর্শনযোগ্য নয়। পক্ষান্তের নবীর জ্যোতি হলো স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার মতো। তাঁর রূপ দর্শনে কোমল স্নিগ্ধ অনুভব ছড়িয়ে পড়ে মনে।
নবীকে দেখার জন্য পাহাড়-বনে যেতে হয় না। তিনি আছেন প্রাণের কাছে। ফকির দরবেশরা আল্লাহকে দেখার জন্য বৃথাই উদ্ভ্রান্তের মতো দর্গম পথে, ঘুরে মরেন। কিন্তু নবিজির দর্শনের জন্য দুর্গম পথে যেতে হয় না। নবিজি হলেন আল্লাহর প্রিয়তম প্রতিনিধি। তাই তাঁর দর্শনের ভিতরে রয়েছে আল্লাহর দর্শনের অনুভব।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৬) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ১১ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১১১৬।]
- রেকর্ড: টুইন [মে ১৯৩৯ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৬)। এফটি ১২৮০৬। শিল্পী নারায়ণ দাশগুপ্ত]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত।