আসিছেন হাবিব-এ খোদা আরশ্-পাকে তাই উঠেছে শোর (asichhen habib-e khoda)

আসিছেন হাবিব-এ খোদা আরশ্-পাকে তাই উঠেছে শোর,
চাঁদ পিয়াসে ছুটে আসে আকাশ পানে যেমন চকোর।
কোকিল যেমন গেয়ে ওঠে ফাগুন আসার আভাস পেয়ে,
তেমনি ক'রে হরষিত ফেরেশ্‌তা সব উঠলো গেয়ে :
দেখ আজ আরশে আসেন মোদের নবী কম্‌লিওয়ালা।
হের সেই খুশিতে চাঁদ-সুরুজ আজ হ'ল দ্বিগুণ আলা॥
ফকির দরবেশ্ আউলিয়া যাঁরে, ধ্যানে জ্ঞানে ধ'রতে নারে,
যাঁর মহিমা বুঝিতে পারে এক সে আল্লাহ তালা॥
বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম, চিরতরে হয় দোজখ্ হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাঁহার কওসরের পিয়ালা॥
'মিম্' হরফ না থাকলে সে আহাদ, নামে মাখা তার শিরিন শাহাদ্,
নিখিল প্রেমাস্পদ আমার মোহাম্মদ ত্রিভুবন উজালা॥

  • ভাবসন্ধান: ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন- আল্লাহ  তাঁদের ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর আধাত্মিক বা দৈহিকভাবে সপ্ত-আসমান পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছিলেন। নবীর জীবনের এই ঘটনাকে মেরাজ বলা হয়।

    সপ্তম আসমানে অবস্থিত আল্লাহর আরশে, হাবিব-এ খোদা অর্থাৎ আল্লার বন্ধু মুহম্মদ (সাঃ) আসবেন এই বার্তা পাওয়ার পরে, সেখানকার ফেরেস্তাদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। যেমন করে, চাঁদের জ্যোৎস্না পান করার জন্য চকোর ছুটে আসে- বসন্তের ফাগুন বাতাসের আভাস পেয়ে কোকিল যেমন ছুটে আসে, তেমনি নবীর আগমনের আভাস পেয়ে, আনন্দচিত্তে ফেরেস্তার নবীর গুণগানে মেতে উঠে। তাঁরা অন্যান্য ফেরেস্তাদের ডেকে বলেন- তাঁদের নবী কম্‌লিওয়ালা (সিদ্ধলাভ করেছেন এমন পূণ্যবান সাধক) আল্লাহর আরশে আসবেন। আরশে আসা উপলক্ষে আনন্দে চন্দ্র-সূর্য দ্বিগুণ আলো প্রদান করা শুরু করেছে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সাধকই তাঁর মহিমা বুঝতে পারেন না। যাঁর নাম একবার মুখে নিলে, দোজখ  চিরতরে হয় হারাম হয়ে যায়।  পাপীর জন্য যাঁর হাতে থাকে কওসরের (বেহেস্তের অমৃতসুধা) পেয়ালা।

    আরবি হরফে আহমদ নামের মিম বাদ দিলে, পাওয়া যায় আহাদ শব্দটি। আল্লার অপর নাম আহাদ। এর অর্থ হলো -এক এবং অদ্বিতীয়। অর্থাৎ তাঁর নামের ভিতরে মিমের আড়ালে লুকিয়ে থাকেন আল্লাহ। অর্থাৎ তাঁরই মধ্যে আল্লাহ বিরাজ করেন।

    তাঁর নামে মাখা আছে শিরিন (মিষ্টি বা সুন্দর) ও শাহাদ (সম্মান)। গানটির শেষে নবিকে কবি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার পাত্র এবং ত্রিভুবনের আলোকিত মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর  (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪২) মাসে এইচএমভি গানটির রেকর্ড করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৪ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ,[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২]। সংখ্যা ৫৭১। 
  • রেকর্ড: এইচএমভি [অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪২)]।  এন ৭৪২৩। আব্বাস উদ্দীন ও কে মল্লিক
     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামধর্ম। নাত-এ রসুল।
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।