ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি (dhormer pothe shohid jahara amra shei she jati)

ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি
সাম্য-মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি॥
পাপ-বিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিল যাঁরা
মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙাড়ি শীতল শান্তি-ধারা
উচ্চ-নীচের ভেদ ভাঙি দিল সবারে বক্ষ পাতি'॥
কেবল মুসলমানের লাগিয়া আসেনি'ক ইসলাম
সত্যে যে চায় আল্লায় মানে মুসলিম তারি নাম
আমির ফকিরে ভেদ নাই  ─  সবে ভাই, সব এক সাথি॥
নারীরে প্রথম দিয়াছি মুক্তি, নর্ সম অধিকার
মানুষের গড়া প্রাচীর ভাঙিয়া করিয়াছি একাকার
আঁধার রাতির বোরখা উতারি এনেছি আশার-ভাতি॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে ইসলাম ধর্মের গৌরবোজ্জ্বল মহিমা উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি পরম আত্মমর্যাদা ও গৌরবের সাথে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে চেয়েছেন- ইসলাম ধর্ম এবং মুসলমান জাতির ঐতিহ্য ও তাদের শাশ্বত অবস্থান। 

    তিনি সগৌরবে বলেছেন- মুসলমানরা এমন এক জাতি, যাঁরা ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য শহিদ হয়েছেন এবং  সাম্য ও মৈত্রী
    প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানবসমাজ যখন পাপ, অন্যায় ও অশান্তির দাহে পুড়ছিল, তখন ইসলামের মহান আদর্শ মরুভূমির কঠোর পরিবেশ থেকে উৎসারিত এক শীতল শান্তিধারার মতো পৃথিবীতে নেমে আসে। এই আদর্শ জাতি, বর্ণ, ধনী-দরিদ্র ও উচ্চ-নীচের কৃত্রিম বিভেদ দূর করে সকল মানুষকে একই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

     

    গানে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, ইসলাম কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য সীমাবদ্ধ ধর্ম নয়। যে ব্যক্তি সত্যকে গ্রহণ করে, এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং ন্যায় ও মানবতার পথে চলে, প্রকৃত অর্থে সেই-ই মুসলিম। ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী ও গরিবের মধ্যে কোনো মর্যাদাগত পার্থক্য নেই; সকল মানুষ সমান এবং পরস্পরের ভাই।

    কবি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলাম নারীকে সম্মান ও স্বাধীন মর্যাদা প্রদান করেছে। নারীকে পুরুষের সমান মানবিক অধিকার দিয়ে সমাজে তার যথার্থ স্থান নিশ্চিত করেছে। মানুষের তৈরি বৈষম্য ও বিভেদের দেয়াল ভেঙে ইসলাম মানবসমাজকে এক ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। ইসলাম অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অন্যায়ের অন্ধকার দূর করে মানবজীবনে আশা, জ্ঞান ও আলোর প্রদীপ জ্বালিয়েছে। অর্থাৎ ইসলামের মূল শিক্ষা মানুষের মুক্তি, মর্যাদা, সাম্য ও শান্তির পথ প্রদর্শন করে।

  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। হানাফী  পত্রিকার ১৫ই পৌষ, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৩৪) সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৫ বৎসর ৭ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • নজরুল গীতি, অখণ্ড
      • প্রথম সংস্করণ [আব্দুল আজীজ আল-আমান সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। ৬ আশ্বিন ১৩৮৫। ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮]
      • দ্বিতীয় সংস্করণ [আব্দুল আজীজ আল-আমান সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। ১ শ্রাবণ ১৩৮৮। ১৭ জুলাই ১৯৮১]
      • তৃতীয় সংস্করণ [ব্রহ্মমোহন ঠাকুর সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। ৮ মাঘ ১৪১০। ২৩ জানুয়ারি ২০০৪। ইসলামী গান। ১০৯৮ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ২৭৯]
      • পরিবর্ধিত সংস্করণ [আব্দুল আজীজ আল-আমান সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। বৈশাখ শ্রাবণ ১৪১৩। এপ্রিল-মে ২০০৬] ভৈরবী-গজল। ১৯০৯ সংখ্যাক গান। পৃষ্ঠা: ৩৮৬।
    • নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ৩৫। পৃষ্ঠা ১১-১২]
    • নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি দ্বিতীয় খণ্ড। প্রথম প্রকাশ, দ্বিতীয় মুদ্রণ [কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। পৌষ ১৪০২। ডিসেম্বর ১৯৯৫। ১০ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ৫৯-৬২]
    • বুলবুল─দ্বিতীয় খণ্ড (গান, ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)। নজরুল-রচনাবলী─ষষ্ঠ খণ্ড [নজরুল জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। বাংলা একাডেমী, ১২ই ভাদ্র ১৪১৪। ২৭শে আগস্ট, ২০০৭। ৪৫ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ২৭৬]
    • নজরুল সঙ্গীত সম্ভার। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। বৈশাখ ১৩৮৯/এপ্রিল ১৯৮২। পাণ্ডুলিপি-২০। ইসলামী ধর্ম্মসঙ্গীত।
       
  • পত্রিকা: 
    • হানাফী । [১৫ই পৌষ, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৩৪)] ।
    • মাসিক মোহম্মদী [৩০শ বর্ষ, ১১ম সংখ্যা। ভাদ্র ১৩৬৬ (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ১৯৫৯)। নজরুল-গীতি।  কথা ও সুর: কাজী নজরুল ইসলাম। স্বর ও স্বরলিপি: মফিজুল ইসলাম। পৃষ্ঠা: ৮৮৪-৮৮৬]
  • রেকর্ডসূত্র: টুইন [জানুয়ারি ১৯৩৫ (পৌষ-মাঘ ১৩৪১)। এফটি ৩৭৬৬। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন] [শ্রবণ নমুনা]
  • সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
  • স্বরলিপি: নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি (দ্বিতীয় খণ্ড)। দ্বিতীয় মুদ্রণ হয়, পৌষ, ১৪০২ বঙ্গাব্দ/ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে। দশম গান। [নমুনা]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম ধর্ম।  জাগরণী
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান।
      • রাগ: রাগের উল্লেখ নেই।
      • তাল: দাদরা
      • গ্রহস্বর: জ্ঞা।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।