উত্তরীয় লুটায় আমার (uttoriyo lutay amar)

                উত্তরীয় লুটায় আমার
                ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়।
আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥
                ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে
                আমার রবি-ফসল দুলে,
নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্‌পা গাওয়ায়॥

  • ভাবার্থ: স্বল্প পরিসরে এই গানটিতে হেমন্তের একটি চিত্ররূপ পাওয়া যায়। হেমন্তের হিমেল হাওয়া ধানের ক্ষেতে আন্দোলিত হয়। কবির মনে জাগরিত হয় নবান্নের প্রত্যাশাখ তার বাসনা উত্তরীয় হয়ে লুটিয়ে পড়ে ধানের ক্ষেতে। এই প্রত্যাশা শুধু তার নয়, নীলাকাশেরও।  তাই তার উত্তরীয়ও যেন কবির প্রত্যাশার সাথে জড়িয়ে গিয়ে দিগন্তে লুটিয়ে পড়ে।

    হেমন্তের ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে রবি শষ্য দোলে। হেমন্তের সুঘ্রাণে চাষীর মনে জাগে সঙ্গীতের পুলক। সে পরামান্ন্দে আনন্দের গানে আপ্লুত হয়। এখানে টপ্পা বলতে বুঝনো হয়েছে- চাষীর মনের উৎসরিত জমজমাট আনন্দ-সঙ্গীতের প্রকাশ। চাষীর সঙ্গীতময় এই প্রকাশ অনেকটা টপ্পার অলঙ্কার গিটকিরি বা জমজমার মতো।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৪১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) গানটি গানের মালা প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৫ বৎসর ৪ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • গানের মালা।প্রথম সংস্করণ আশ্বিন ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)। ৫৬। হৈমন্তী-তেওরা] 
    • নজরুল রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংকলন ষষ্ঠ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২। গানের মালা। ৫৬। হৈমন্তী-তেওরা। পৃষ্ঠা ২২৫]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: প্রকৃতি, হেমন্ত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।