আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায় (ano saki shiraji ano akhi-piyalay)

আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়॥
পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
                           বিষাদিত নিরালায়॥
তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
তোমার হাতে ঢালা 

দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
                           ভুলাইয়া বেদনায়॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানের শুরুতেই ধর্মগুরুর দৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার প্রেমপূর্ণ শিরাজি কামনা করা হয়েছে।

    যেন তাঁর  প্রেমস্পর্শে কবির নয়নও প্রেম-মদিরায় পূর্ণ হয়ে উঠে। গানটি এই আদর্শে সাকি তথা ধর্মগুরুর কাছে কবির প্রার্থনাকে উপস্থাপন করা হয়েছে, সুফি দর্শনের আলো-ছায়া ঘেরা রূপকতার মধ্য দিয়ে।

    জ্যোৎস্না প্লাবিত মধুময় রাত্রি কবির কাছে মনে হয় পান্‌সে, তাই তার মন ঝিমিয়ে পড়ে। খোদার প্রেমের শরাব ছাড়া গোলাপের বাগানও যেন উচাটনে আনমনা হয়ে যায়।  স্রষ্টার প্রেমের মদির নেশায় ঢুলুঢুলি আঁখি যেন, প্রেমহীন বিষাদিত বেদনাঘন দৃষ্টির আবেশ- ধর্মগুরুর চোখকে আবরিত না করে। কবি কামনা করেন যেন- গুরুর ধর্ম-প্রেমে উদ্দীপ্ত নবীন নেশায় মেশা চাহনি, কবির মনকে খোদার প্রেমে রঙিন করে তোলে।

    ভোরের উদার হওয়া যেন ধর্মগুরুর কাছে করুণা প্রার্থনা করে। সারা জীবন কবি সহ্য করে এসেছেন সংসারের কাঁটার জ্বালা। সেই জ্বালাকে ভুলে থাকার জন্য, কবি খোদার প্রেমের শরাব প্রার্থনা করছেন গুরু কাছে। কবি আরও চান- যেন গুরু স্রষ্টার প্রেমের আনন্দ-ছন্দে তাঁকে আনন্দ-হিল্লোলে আন্দোলিত করেন,  ভুলিয়ে দেন সকল সংসারের জ্বালা।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত 'সুর-সাকী' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।  এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • সুর-সাকী
      • প্রথম সংস্করণ [আষাঢ় ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ। জুলাই ১৯৩২)]।  ১৫ সংখ্যক গান
      • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা।  [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১। সুর-সাকী। ১৫ । ভৈরব-সেতারখানি। পৃষ্ঠা: ২৩০-২৩১]
  • রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৩৯)। এফ.টি ২২১৭। শিল্পী: সুধীরা দাশগুপ্তা(শ্রবণ নমুনা)]
  • [সালাউদ্দিন আহমেদ(শ্রবণ নমুনা)]
  • স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: সুধীন দাশ। [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, ষষ্ঠ খণ্ড (নজরুল ইন্সটিটিউট, ফাল্গুন ১৪০৩। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭)-এর ২য় গান। পৃষ্ঠা: ২৩-২৬।]  [নমুনা]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত, ইসলাম, প্রার্থনা, স্রষ্টা
    • সুরাঙ্গ: গজল

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।